ব্রেকি নিউজ
- Editor
- 04:13 13/Aug/2026
- 2 মিনিট সময় লাগবে পড়তে
সোমেন সেন, ত্রিপুরা পাবলিক ওপিনিওন রিপোর্টার উদয়পুর : স্মার্ট মিটার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যখন একের পর এক গ্রাহকের ক্ষোভ, অস্বাভাবিক বিলের অভিযোগ এবং নানা প্রশ্ন সামনে আসছে, তখন সরকারি পরিসংখ্যানে সম্পূর্ণ ভিন্ন ছবি। উদয়পুর ও অমরপুর বিদ্যুৎ সার্কেলে ইতিমধ্যে ৬৬,৫৪৩টি স্মার্ট মিটার বসানো হলেও দপ্তরের কাছে লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে মাত্র ২১টি। এই তথ্য জানিয়েছেন গোমতী জেলা বিদ্যুৎ সার্কেলের এজিএম বিদ্যুৎ বাবু। সামাজিক মাধ্যমে এত অভিযোগের দাবি থাকলে দপ্তরের কাছে লিখিত অভিযোগের সংখ্যা এত কম কেন—এ নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন এজিএম। তাঁর বক্তব্য, গ্রাহকদের সত্যিই যদি স্মার্ট মিটার বা বিল নিয়ে সমস্যা থাকে, তাহলে দপ্তরে অভিযোগ জানানো হলে প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখে সমাধানের ব্যবস্থা করা হবে। ভুতুড়ে বিল’ প্রসঙ্গে এজিএমের বক্তব্য, ইলেকট্রনিক ডিজিটাল মিটারে প্রযুক্তিগত ত্রুটির কারণে কখনও অস্বাভাবিক বিল তৈরি হতে পারে। তবে এমন বিল এলেই গ্রাহককে তা পরিশোধ করতেই হবে, এমন নয়। অভিযোগ পাওয়ার পর মিটার, ব্যবহার, বিলের হিসাবসহ সংশ্লিষ্ট বিষয় পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় সংশোধন করা সম্ভব। শুধু স্মার্ট মিটারেই এমন সমস্যা হচ্ছে—এমন দাবিও মানতে নারাজ বিদ্যুৎ দপ্তর। এজিএম জানান, পুরনো মিটারেও কখনও কখনও অস্বাভাবিক বিলের ঘটনা ঘটেছে। লক্ষ লক্ষ গ্রাহকের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিগত ত্রুটি একেবারেই হবে না, এমন নিশ্চয়তা দেওয়া সম্ভব নয়। তবে সমস্যা হলে তা চিহ্নিত করে সমাধানের সুযোগ রয়েছে। এদিকে প্রিপেইড বা ডিজিটাল মিটারে সাম্প্রতিক সময়ে বিলের চাপ বেড়ে যাওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে এজিএম জানান, গত তিন মাস সার্ভার সংক্রান্ত সমস্যার কারণে নির্দিষ্ট কিছু চার্জ কাটা যায়নি। পরে ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রভাবের পাশাপাশি আগের বকেয়া হিসাব একসঙ্গে যুক্ত হওয়ায় অনেক গ্রাহকের বিলে একসঙ্গে অতিরিক্ত চাপ পড়েছে। বিষয়টি সরকারও বিবেচনা করেছে এবং গ্রাহকদের সমস্যা কমাতে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।অস্বাভাবিক বিলের উদাহরণ হিসেবে একটি মিষ্টির দোকানের ঘটনাও তুলে ধরেন এজিএম। তাঁর দাবি, ওই দোকানে প্রথমে ৮ লক্ষাধিক টাকার বিল এসেছিল। পরে বিষয়টি যাচাই করার পর সেই বিল কমে প্রায় ২১ হাজার টাকা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, হিসাবের কোথাও অসঙ্গতি থাকলে তা যাচাই করে সংশোধন করা সম্ভব। এদিকে উদয়পুরের মানুষ নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেন না—এমন বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলে এজিএমের ব্যাখ্যা, মন্ত্রীর বক্তব্য সম্ভবত গ্রাহকদের নিয়মিত বা অনিয়মিত বিল পরিশোধের পরিসংখ্যানগত অবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে বলা হয়ে থাকতে পারে। অর্থাৎ ‘ইরেগুলার বিল পেমেন্ট’-এর প্রসঙ্গই সেখানে বোঝানো হয়েছে বলে তাঁর মত। সবশেষে বিদ্যুৎ দপ্তরের বার্তা, স্মার্ট মিটারে অস্বাভাবিক বিল এলে আতঙ্কিত না হয়ে সরাসরি অভিযোগ জানাতে হবে। দপ্তর মিটার রিডিং, পূর্বের বিদ্যুৎ ব্যবহার, বকেয়া ও অন্যান্য হিসাব যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। তবে এখানেই থেকে যাচ্ছে বড় প্রশ্ন—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যদি এত মানুষের অভিযোগ থাকে, তাহলে দপ্তরের খাতায় অভিযোগ মাত্র ২১টি কেন? গ্রাহকদের অভিযোগ জানানোর প্রবণতা কম, নাকি অভিযোগ গ্রহণ ও নিষ্পত্তির প্রক্রিয়ায় কোথাও ঘাটতি রয়েছে—এই প্রশ্নের উত্তরই এখন গুরুত্বপূর্ণ। স্মার্ট মিটার নিয়ে বিতর্ক থামাতে শুধু আশ্বাস নয়, গ্রাহকের অভিযোগের দ্রুত ও স্বচ্ছ নিষ্পত্তিই পারে পরিস্থিতি পরিষ্কার করতে।
