দুই আইসক্রিম কারখানা সিল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা।

দুই আইসক্রিম কারখানা সিল, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা।

ত্রিপুরা পাবলিক অপিনিয়ন, উদয়পুর প্রতিনিধি:
খাদ্যসামগ্রীর মান ও নিরাপত্তা নিয়ে এবার আরও কঠোর অবস্থান নিল উদয়পুর মহকুমা প্রশাসন। সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে মঙ্গলবার ব্রহ্মাবাড়ি বাজার থেকে মাতাবাড়ি বাজার পর্যন্ত বিভিন্ন খাদ্য ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক তল্লাশি চালানো হয়। প্রশাসনের এই অভিযানে সামনে আসে একাধিক অনিয়ম। কোথাও মিলেছে মেয়াদ পেরিয়ে যাওয়া খাদ্যসামগ্রী, আবার কোথাও খাদ্য তৈরির পরিবেশ নিয়েই উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন।মহকুমা শাসকের নির্দেশে স্বাস্থ্য দপ্তর, ফুড সেফটি বিভাগ, খাদ্য দপ্তর এবং লিগ্যাল মেট্রোলজি বিভাগের আধিকারিকদের নিয়ে গঠিত যৌথ দল বিভিন্ন দোকান, হোটেল, মিষ্টির দোকান এবং খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে অভিযান চালায়।অভিযানের সময় বেশ কয়েকটি দোকান থেকে উদ্ধার করা হয় মেয়াদোত্তীর্ণ প্যাকেটজাত খাবার ও ঠান্ডা পানীয়। নিয়ম মেনে সেগুলি বাজেয়াপ্ত করা হয়। এরপর প্রশাসনের নজর পড়ে আইসক্রিম তৈরির কারখানাগুলিতে।সেখানে গিয়ে আধিকারিকদের নজরে আসে আরও বেশ কিছু অনিয়ম। অভিযোগ, তৈরি আইসক্রিমের প্যাকেটে মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখ উল্লেখ করা হয়নি। শুধু তাই নয়, উৎপাদন কেন্দ্রের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং সামগ্রিক পরিবেশ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন অভিযানে থাকা আধিকারিকরা।খাদ্য নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিয়ম না মানার অভিযোগে উদয়পুরের দুটি আইসক্রিম কারখানা সিল করে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে অনিয়ম ধরা পড়া বিভিন্ন দোকান ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানাও করা হয়েছে।প্রশাসন সূত্রে খবর, মঙ্গলবারের অভিযানে সব মিলিয়ে ৪৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। অনিয়মের ধরন ও মাত্রা খতিয়ে দেখে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলির বিরুদ্ধে আরও আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে বলেও জানা গেছে।জেলা স্বাস্থ্য আধিকারিক ডা. শুভেন্দু দেববর্মা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মানুষের স্বাস্থ্যের প্রশ্নে কোনও ধরনের আপস করা হবে না। খাদ্যসামগ্রীর গুণগত মান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আগামী দিনেও এই ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।প্রশাসনের আচমকা অভিযানে স্বাভাবিকভাবেই ব্যবসায়ী মহলে তৈরি হয়েছে চাঞ্চল্য। তবে এই অভিযানের মধ্য দিয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি বিষয় স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে—খাদ্যসামগ্রী নিয়ে নিয়ম ভাঙলে কিংবা মানুষের স্বাস্থ্যকে ঝুঁকির মুখে ফেললে কোনও প্রতিষ্ঠানকেই ছাড় দেওয়া হবে না।

সম্পরকিত খবর